সময়সীমার আগেই বন্ধ ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ — ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে হাজারো শিশু


 
    

 সময়সীমার আগেই বন্ধ ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ — ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে হাজারো শিশু 

প্রতিবেদন:
ঢাকা, ১৪ এপ্রিল ২০২৫ — দেশের বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে চালু হওয়া ‘আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ পূর্বঘোষিত সময়সীমা অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সময়ের আগেই এ ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, এখন আবারও হাজার হাজার শিশুর শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্পের সময়ের আগেই বন্ধ হওয়া ও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায়, শিক্ষার্থীরা যেমন দিশেহারা, তেমনি সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকরাও পড়েছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে।

প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ফারাক       

২০১৮ সালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চালু হওয়া এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী সেই সব শিশুদের শিক্ষার সুযোগ দেওয়া, যারা কখনো স্কুলে যায়নি কিংবা নানা কারণে মাঝপথে ঝরে পড়েছে। তাদের জন্য বিশেষায়িত দ্রুত পাঠ্যক্রম চালু করে বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে পাঠদান চালানো হয়।

সরকারি নীতিমালায় ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণ থাকলেও প্রকল্পের কার্যক্রম গত বছরের ডিসেম্বরেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে, এখনো পড়াশোনা শেষ না হওয়া অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই আটকে গেছে। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।


ভুক্তভোগীদের কণ্ঠে উদ্বেগ

নরসিংদীর চরাঞ্চলে বিকল্প শিক্ষা কেন্দ্রে পড়াশোনা করছিল ১১ বছর বয়সী সুমাইয়া। সে জানায়, “আমি দুই বছর পর আবার পড়তে শুরু করেছিলাম। এখন স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা আবার কী করব?”

একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক অভিভাবক। একজন মা বলেন, “আমার মেয়েটা অনেক কষ্টে পড়া শুরু করেছিল। এখন আবার ঘরে বসে আছে। ওর তো আর মেইনস্ট্রিম স্কুলে ভর্তি হবার সুযোগও নেই।”

শিক্ষাবিদদের সতর্কতা

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এই প্রকল্প ছিল সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একে হঠাৎ বন্ধ করে দিলে সার্বিক শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. রাশেদা খাতুন বলেন, “এ ধরনের কর্মসূচি হঠাৎ থামিয়ে দেওয়ার মানে হলো একটি দুর্বল জনগোষ্ঠীর শিক্ষা অধিকার কেড়ে নেওয়া। এটি শুধু সামাজিক বৈষম্যই বাড়াবে না, বরং সরকারের শিক্ষা লক্ষ্য অর্জনেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।” 


   

সরকারি ব্যাখ্যা অনুপস্থিত

প্রকল্প হঠাৎ বন্ধ হওয়ার পেছনে সরকারি পর্যায় থেকে এখনো কোনো পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রশাসনিক জটিলতা ও বাজেট ঘাটতির কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আহ্বান

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া শিশুদের জন্য এমন উদ্যোগকে দীর্ঘমেয়াদে চালু রেখে জাতীয় শিক্ষানীতির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। প্রকল্পের মেয়াদ নবায়ন না হলে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সকলের জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG 4) অর্জনেও ব্যর্থ হতে পারে।


শেষ কথা:
'আউট অব স্কুল চিলড্রেন এডুকেশন প্রোগ্রাম’ ছিল প্রান্তিক শিশুদের জন্য একটি আশার আলো। এখন সেই আলো নিভে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রয়োজন এখনই কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিকল্প উদ্যোগ গ্রহণ, যাতে একটি প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

পল্লী বিদ্যুতে ১৫৯৬ পদে বিশাল নিয়োগ ২০২৫

“জুলাই–আগস্ট মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়”

🔴 বাবার কাছেও রক্ষা পেল না মেয়ে