“জুলাই–আগস্ট মামলায় শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়”
আইসিটি-১ আদালতে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড: জুলাই-আগস্ট সহিংসতার মামলায় ঐতিহাসিক রায়
প্রতিবেদন
স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা, সোমবার — রাজধানীর পুরান ঢাকার International Crimes Tribunal-1 (আইসিটি-১) দেশে আলোচিত জুলাই-আগস্ট ২০২৪ আন্দোলনকালীন সহিংসতার মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, আর সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে রাজসাক্ষী হওয়ায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে তিন সদস্য বিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। আদালত পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে দুইটিতে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড, আরেকটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। বাকি অভিযোগে তিনি খালাস পান।
মামলার পটভূমি
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সারাদেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ছড়ায়। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ, গণগ্রেফতার, নির্যাতন, নিখোঁজ, এবং পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ ওঠে তৎকালীন সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত হন বহু ছাত্র ও সাধারণ মানুষ। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইসিটি-১ আদালতে মামলা দায়ের হয়।
তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগ করা হয়—
-
আন্দোলন দমন করতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল,
-
নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সেই নির্দেশে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনা করে,
-
এবং এতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়।
রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
আদালত রায়ে বলেন—
“রাষ্ট্রশক্তির অপব্যবহার করে নিরস্ত্র জনগণের ওপর পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল। অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল প্রত্যক্ষ, প্রভাবশালী এবং অপরাধ সংঘটনে উৎসাহমূলক।”
ট্রাইব্যুনাল আরও উল্লেখ করে যে, এ ধরনের অপরাধ ক্ষমা করা যায় না এবং রাষ্ট্র–আইনের বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রাপ্য।
দুই সহ-আসামির রায়
-
আসাদুজ্জামান খান কামাল: দুই অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড
-
চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন: রাজসাক্ষী হিসেবে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড
রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা
রায় ঘোষণার আগে সকাল থেকেই আদালতপাড়ায় কঠোর নিরাপত্তা দেখা যায়। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও স্পেশাল ব্রাঞ্চ মোতায়েন ছিল। রায় ঘোষণার পরে রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত চেকপোস্ট বসানো হয়।
প্রতিক্রিয়া
রায়ের পর আদালতের বাইরে উপস্থিত সাধারণ মানুষের একটি অংশ সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর তারা বিচার পেয়েছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই রায়কে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করেন। শেখ হাসিনার আইনজীবীরা জানান, তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
রায়ের পরপরই কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তারা দাবি করে, বিচারকে স্বচ্ছ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে—ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে রায় দিয়েছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন